
জামালপুরের মাদারগঞ্জে এক বছরের সম্পর্কের পর বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৫)। প্রেমিক শামীম হাওয়াই রোডে ফুচকা খাওয়ানোর পর তাকে তেঘরিয়া বাজারে একা রেখে গা-ঢাকা দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকার প্রেমিক শামীমের বাড়িতে এ অনশনের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শামীম ওই এলাকার আলতাফুর রহমানের ছেলে। অনশনরত ওই শিক্ষার্থী ঢাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার স্বপন মিয়ার মেয়ে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, প্রায় এক বছর আগে শামীমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গ্রামের বাড়িতে আসার পর বিভিন্ন সময়ে শামীমের সঙ্গে তার একাধিকবার দেখা ও শারীরিক সম্পর্ক হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে শামীম তাকে মাদারগঞ্জ উপজেলার হাওয়াই রোডে ফুচকা খাওয়াতে নিয়ে যায়। খাওয়া শেষে দুপুর একটার দিকে তেঘরিয়া বাজারে তাকে একা রেখে কৌশলে কেটে পড়ে শামীম। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টার দিকে বাধ্য হয়ে শামীমের বাড়িতে অবস্থান নেন তিনি। শিক্ষার্থীর আরও অভিযোগ, “আমি এই বাড়িতে আসার পর আমার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে রিসেট দেওয়া হয়। এতে শামীমের সঙ্গে সম্পর্কের ছবি ও যাবতীয় প্রমাণ মুছে ফেলা হয়েছে। এখন এই অবস্থায় আমার পরিবার আমাকে মেনে নেবে না। আমার মান-সম্মান সব শেষ হয়ে গেছে। আমি স্ত্রীর মর্যাদা চাই, শামীমকে ছাড়া এখান থেকে যাব না।”
এদিকে ঘটনার পর থেকে প্রেমিক শামীম আত্মগোপনে রয়েছেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রেমিক শামীমের বাড়িতে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “মেয়েটি দুপুর থেকে বাজারে ঘোরাঘুরি করছিল এবং সন্ধ্যার পর প্রেমিক শামীমের বাড়িতে অবস্থান নেয়। সম্পর্কের ভুল এককভাবে কারও হয় না। অভিযোগ সত্যি হলে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর দ্রুত সামাজিক নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। অভিযোগের বিষয়ে শামীমের বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার ছেলের বি’রুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মি’থ্যা ও ভি’ত্তিহীন। স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী অসৎ উদ্দেশ্যে টাকা দাবি করেছিল। আমি তাদের কথায় রাজি না হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জানাই। পরে পুলিশ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আবুল হাসেম জানান, “তেমন কিছু নয়, মেয়েটি শুধু ফুচকা খেতে এসেছিল। এর ছেলেটির বাড়িতে গিয়ে উঠে, পুলিকে দিয়ে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে তার মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শারীরিক সম্পর্ক ও পুলিশের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট তথ্য না দিয়ে থানায় গিয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।